Introduction to Sustainable Development Goals (SDGs), Actions & Targets.

 টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), লক্ষ্যমাত্রা ও সূচকসমূহ পরিচিতি।


Introduction to Sustainable Development Goals (SDGs), Actions & Targets.

পর্বঃ ১

দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, শিশুমৃত্যু, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার অভাব, এইচআইভি/এইডস্, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়ার মতো রোগব্যাধিতে ব্যাপক হারে মানুষের মৃত্যু এগুলো বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের বহু বছরের সমস্যা। এ সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারলে বিশ্বব্যাপী মানব উন্নয়ন সম্ভব নয়, সম্ভব নয় সত্যিকার বিশ্বশান্তি অর্জন। এই ব্যাপারটি অনুধাবন করে ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের ১৮৯টি (বর্তমানে ১৯৩টি) দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানগণ সম্মিলিতভাবে একটি অঙ্গীকার করেন। আর তা হলো- ২০১৫ সালের মধ্যে তারা নিজ নিজ দেশে আটটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন।
এ আটটি লক্ষ্য ছিলঃ
১। চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণ (Eradicate extreme poverty and hunger)
২। সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন (Achieve universal primary education)
৩। নারী-পুরুষ সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়নে উৎসাহ দান (Promote gender equality and empower women)
৪। শিশুমৃত্যুহার হ্রাসকরণ (Reduce child mortality)
৫। মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন (Improve maternal health )
৬। এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগব্যাধি দমন (Combat HIV/AIDS, malaria and other diseases )
৭। পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ (Ensure environmental sustainability)
৮। সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা (Develop a global partnership for development)

এ লক্ষ্যগুলোকেই বলা হয় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা Millennium Development Goals, সংক্ষেপে MDGs.

২০১৫ সালের মধ্যে এই আটটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য আবার দেয়া হয়েছিল ১৮টি সুনির্দিষ্ট টারগেট বা অভীষ্ট এবং ৪৮টি নির্দেশক বা সূচক। এ ১৮টি টারগেট ছিলঃ
১. দৈনিক এক ডলারের কম আয়ের মানুষের অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে আনা
২. ক্ষুধার কষ্ট ভোগ করা মানুষের অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে আনা
৩. সকল ছেলে-মেয়ে প্রাইমারি স্কুলে অন্তত পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তাদের পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করা
৪. সম্ভব হলে ২০০৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীগুলোতে এবং ২০১৫ সালের মধ্যে শিক্ষার সকল বৈষম্য দূর করা
৫. পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার দুই-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা
৬. মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহারের অনুপাত তিন-চতুর্থাংশ হ্রাস করা
৭. এইচআইভি/এইডসের বিস্তার রোধ
৮. ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য প্রধান রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা
৯. দেশীয় নীতিমালা ও কর্মসূচির মধ্যে টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় করা, পরিবেশগত সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে আনা
১০. নিরাপদ পানীয়জলের স্থিতিশীল সুযোগ বঞ্চিত জনগণের সংখ্যার অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে আনা
১১. ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ১০ কোটি বস্তিবাসীর জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নসাধন করা।
১২. একটি অবাধ বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থার অধিকতর উন্নয়নসাধন করা যা হবে নিয়মভিত্তিক, পূর্বাভাসযোগ্য ও বৈষম্যহীন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুশাসন, উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসের প্রতিশ্রতিও এর অন্তর্ভুক্ত।
১৩. স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশেষ প্রয়োজন মোকাবেলা করা। এর মধ্যে রয়েছে রফতানি শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ, মারাত্মক ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর বর্ধিত পরিমাণ ঋণ মওকুফ, সরকারি দ্বিপক্ষীয় ঋণ বাতিল এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অঙ্গীকারবদ্ধ দেশগুলোর জন্য আরো উদারভাবে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা।
১৪. স্থলবেষ্টিত ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর বিশেষ প্রয়োজন মোকাবেলা করা ….
১৫. উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর ঋণের সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ অব্যাহত রাখতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা
১৬. উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহযোগিতায় যুবসমাজের জন্য ভদ্রোচিত ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা
১৭. ওষুধ কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সামর্থ্য অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ করা
১৮. বেসরকারি সহযোগিতায় নতুন প্রযুক্তিগুলো বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুফল সহজলভ্য করা

জাতিসংঘের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনান বলেছিলেন, “জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন নয় বরং তা অর্জিত হবে প্রতিটি দেশের সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে"।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জিত হলে বিশ্বব্যাপী প্রায়-
৫০০ মিলিয়ন মানুষকে আর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে হবে না।
৩০০ মিলিয়ন মানুষকে আর কখনো ক্ষুধার কষ্ট ভোগ করতে হবে না।
৩০ মিলিয়ন শিশু আর ৫ বছর বয়সের আগেই মারা যাবে না।
২ মিলিয়ন নারী মাতৃত্বজনিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আরো অন্তত ৩৫০ মিলিয়ন মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয়জলের ব্যবস্থা করা যাবে।
আরো অন্তত ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ স্যানিটেশন সুবিধার আওতাভুক্ত হবে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ একযোগে কাজ করে যাচ্ছিল। কিন্তু, কিন্তু তারপর……তারপর কি হল? তারপর পরবর্তী পর্বে দেখুন। চলবে………

মোঃ মারুফ বিল্লাহ
জুনিয়র কন্টেন্ট অফিসার
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা।

Comments

Popular posts from this blog

Rethink these are the 7 Rs of Sustainability